প্রতিবারই গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাড়ে আয়োজন করা হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার। ইতিহাসবীদদের মতে,মাওলানা ইলিয়াস কান্দালভী (রহ.)-এর হাত ধরে ১৯২৭সালে উপমহাদেশে দাওয়াত ও তাবলীগ জামাতের কাজ শুরু হয়।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর দুই পাকিস্তান ও ভারতে মিলে ইজতেমার উদ্যোগ নেওয়া হয়।মাওলানা আজিজের মাধ্যমে ১৯৪৪সালে বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের কাজ শুরু করেন । প্রায় সব দেশ থেকেই তাবলীগ জামাতের অনুসারীরা এই বার্ষিক ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে তাবলীগ জামাতে প্রায় ৩০-৪০হাজার বিদেশি অনুসারী অংশ নেন।
ইজতেমার প্রথম পর্বে বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা এবং দ্বিতীয় পর্বের আয়োজনে ভারতের মাওলানা সাদ কান্দালভীর অনুসারীরা অংশ নিয়ে আসছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নিজের মধ্যে দ্বন্দ করে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে বর্তমানে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন হচ্ছে।
মাওলানা সাদের কথার জেরে ২০১৮সালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে দুই দল।কি হয়েছিল সে দিন ?আর এমন কি-ই বা বলেছিলেন তিনি? কেন ৫বছর পরেও এই দ্বন্দের সমাপ্তি ঘটেনি?
মাওলানা সাদ যাতে বাংলাদেশ আসতে না পারে সেজন্য হেফাজতে ইসলামও নানা তৎপরতা শুরু করে। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কিছু দাবি তুলে ধরেন। গত বছর মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা প্রকাশ্যে মাওলানা সাদের বিরোধিতা করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা রিপোর্টের তথ্য বলছিল, হেফাজতে ইসলামের বিরোধিতার মুখে মাওলানা সাদের অনুসারীরা যদি তাকে দেশে আনতে চেষ্টা করেন তাহলে পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
২০২২সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দুইপক্ষের সাথে বৈঠক করে সমঝোতায় আসতে চায়,কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। দুটি অংশ আলাদা আলাদা ভাবে আয়োজন করার কারণে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছিল।
মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীদের দাবি ছিল, মাওলানা সাদ তাঁর কিছু বক্তব্যে কুরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা করেন । আর এ নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক। এছাড়াও তারা নিজেদের তাবলীগ জামাতের মূল ধারা হিসেবে দাবি করেন।
মাওলানা সাদ কান্দালভী নিজ থেকে এর সমাধান না করলে তাবলীগ জামাতের বিভক্তির অবসান হবেনা বলে মনে করেন মাওলানা জুবায়ের সমার্থকরা।কিন্তু মাওলানা সাদের অনুসারীদের বক্তব্য তারা এটির সমাধানে আসতে চেষ্টা করেছেন।
১৯৯৪সাল থেকে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের মাওলানা মাওলানা সাদ কান্দালভী।কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে তাকে কেন্দ্র করে তাবলীগ জামাতে বিভক্তি তৈরি হয়। মাওলানা সাদ তাবলীগ জামাতে কিছু সংস্কার করার পক্ষে, তার সংস্কার ভাবনা নিয়ে ২০১৭সালে ভারতের তাবলীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিভক্তির শুরু হয়।এরপর ২০১৮ সালে জুলাই মাসে ঢাকায় কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমেদ সফির উপস্থিতিতে তাবলীগ জামাতের একাংশে এক সম্মেলন হয়, এতে সাদ কান্দালভীকে বাংলাদেশে আসা নিষিদ্ধ করা সহ আরও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় দিল্লিতে তাবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাদ কান্দালভী বক্তব্য ও মতবাদকে অনুসরণ করা হবে না এবং আগামী বিশ্ব ইজতেমার সময় তাকে বাংলাদেশ আসতেও দেওয়া হবে না। তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ সাদ কান্দালভীর এসব চিন্তা ভাবনা নিয়ে তাবলীগ জামাতের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব ২০১৭সালের পরে। সে সময় মাওলানা সাদ বাংলাদেশে এসেও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় প্রবেশ করতে পারে নি। তারপর তিনি কাকরাইলের এক মাসজিদ নামাজ পরে চলে যান। কিন্তু কি বলেছিলেন তিনি?কোন কথার জেরে আলাদা হয়ে যায় তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষ ?
মাওলানা সাদ বলেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রচারণা অর্থের বিনিময়ে করা উচিত নয়। মাওলানা সাদ আরও বলেছেন,মাদ্রাসাগুলো শিক্ষকদের মাদ্রাসার ভেতর নামাজ না পড়িয়ে, মসজিদ নিয়ে এসে নামাজ পড়া উচিত। যাতে মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ে। অনেকেই মনে করেন যে এই বক্তব্যের মাধ্যমে মিলাদ বা ওয়াজ মাহফিলের মতো কর্ম কান্ড পরিচালনার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া কথা বলা হয়েছে।
তার এসব বক্তব্য ভারতীয় জামাতের একাংশকে ক্ষুব্ধ করে তোলেন। বিশেষ করে ভারতের দারুলউলুম দেওয়ান তার বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করেন। এর প্রভাব পরে বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের সদস্যদের মধ্যেও।
তবে দুপক্ষ যে ভাবে তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে তাতে মনে হয় না এ দ্বন্দ্বের সমাপ্তি হবে। কারণ দুই পক্ষই দাবি করছে যে এর মধ্যে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে।এজন্য তারা পরস্পরকে দাবি করছে।বলে রাখা ভালো, মাওলানা সাদের বক্তব্যের প্রক্ষিতে ২০১৮সালে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুইদল।এই সংঘর্ষের জেরে ১জনে মৃত্যু হয় এবং প্রায় ২০জনের মতো আহত।
তবে এসব তথ্য আমাদের অনেকেরই অজানা। অনেকের মতে, বিশ্ব ইজতেমা দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ায় সুবিধা হয়েছে। আগে যারা নির্ধারিত সময়ে ইজতেমায় উপস্থিত হতে পারতেন না,দুইভাগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে এখন তারা অনেকেই প্রথম পর্বে আসতে না পারলেও দ্বিতীয় পর্বে এসে অংশগ্রহণ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইজতেমায় নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। নারীরা সাধারণত আশপাশের বাসাবাড়িতে দু-তিন দিন ভাড়ার বিনিময়ে অবস্থান করেন। তবে তাঁদের সঙ্গে আসা পুরুষ সদস্যরা আলাদা স্থানে থাকেন। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের কারণে বিশ্ব ইজতেমা তাবলিগ জামাতের পরিচিতির একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে যেমন বিবেচিত হচ্ছে, তেমনি এর মাধ্যমে তাবলিগের নতুন অনুসারীও তৈরি হচ্ছে।
নবীন নিউজ/জা
জাতীয় শিশু-কিশোর সংস্থা চাঁদের কণার উদ্যোগে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা উদযাপন
পর্তুগালে স্থায়ী ভাবে থাকার সুবিধা বন্ধ
বঙ্গোপসাগরের যে দ্বীপে মানুষ গেলে আর জীবিত ফিরতে পারে না
২ মিনিটে হাঙরকে একাই গিলে ফেললো তিমি
যে ৬টি কাজ করে আপনি নিজের জীবন নিজেই নষ্ট করছেন
‘মৃত্যুর’ নাম্বার পড়েছে লক্ষ্মীপুরের ১৫ হাজার গাছে!
‘নারীর বিনা বেতনে করা কাজের স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি স্মার্ট হবে না’
মাটি খুঁড়তেই বের হলো ২ হাজার বছর আগের শত শত সমাধি
মাছ কী ঘুমায়?
হিজাব পরে আলোচনার ঝড় তুললেন যে মডেল
গাছ লাগানোর সঠিক সময় কখন?
৫০ জন কনের যৌতুক ছাড়া বিয়ে
জীবন্ত অবস্থায় কবর দেবার চারদিন পর বৃদ্ধকে জীবিত উদ্ধার
কর্মক্ষেত্রে একাকিত্ব বোধ করেন?
ভালো কাজ করলেই খাবার পাওয়া যায় যেখানে
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ার কারণ ও সমাধান
বৃষ্টির মতো ছিটকে পড়ছে স্বর্ণ
জাপানে খালি পড়ে আছে ৯০ লাখ বাড়ি
আজ বন্ধুর বাড়িতে রাত কাটানোর দিন
তীব্র তাপপ্রবাহে পানি শুকিয়ে জেগে উঠলো ৩০০ বছরের পুরনো শহর
পুরানো প্রেম ভুলবেন কী করে?
মানুষের সেরা বন্ধু ছিল শিয়াল: গবেষণা
‘সুপার-শি’ দ্বীপ; যেখানে পুরুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
চরম পানির সংকটে পড়বে ভবিষ্যৎ পৃথিবী
ইতিহাসের ‘সফলতম’ নারী জলদস্যু; যার আয়ত্ত্বে ছিল ৮০ হাজার সৈন্য
চুয়িং গামের ইতিহাস জানা আছে কী?
একজন মানুষের চেহারা মনে রাখার ক্ষমতা কত?
সুখে থাকার দিন আজ
উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বগুণ বাড়াতে করণীয়
চাঁদ হঠাৎ ভ্যানিশ হয়ে গেলে পৃথিবীর কী হবে?