আর কিছু দিন পরেই শুরু হবে ১৪৪৫ হিজরির পবিত্র রমজান মাস। রমজান মাসে নাজিল হয়েছে পবিত্র আল-কোরআন, যা মানুষের দিশারি এবং স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী।
সাহাবি আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন রমজানের প্রথম রাত শুভাগমন করে তখন বিতাড়িত শয়তান ও দুষ্টু জিনদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, একজন ঘোষক ঘোষণা দিতে থাকে, হে সৎকর্মশীল! অগ্রসর হও। হে অসৎকর্মশীল! থামো। মহান আল্লাহ রমজানের প্রতি রাতে অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। (সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৬৪২)
রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে বোখারি শরিফের একটি হাদিসের উল্লেখ আছে, একদিন এক বেদুইন নবী (সা.) এর কাছে এসে বললো, ‘আমাকে এমন একটি কাজের সন্ধান দিন, যা করলে আমি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারি’। নবী (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর ইবাদত করো, তার সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করো না, ফরজ নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং রমজান মাসের রোজা রাখো’। লোকটি বললো, ‘আল্লাহর শপথ! আমি এর চেয়ে বেশি কিছু করবো না’। যখন লোকটি ফিরে গেল তখন নবী (সা.) বললেন ‘বেহেশতি লোক দেখার যার ইচ্ছা, সে যেন এ ব্যক্তিকে দেখে’।
বরকতময় রমজান মাসের প্রথম রাত থেকেই বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শেকলবন্দি করে রাখা হয় শয়তানকে, যেন সে মানুষকে প্ররোচনা দিতে না পারে। কিন্তু রোজার মাসে শয়তানকে কেন আটকে রাখা হয় ? আর আটকানো হলে মানুষ খারাপ কাজ করে কেন?
রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য বেহেশতে ‘রায়্যান’ নামের একটি দরজা বানানো হয় । সাহাল ইবনে সাআ’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন- ‘বেহেশতের আটটি দরজা রয়েছে। এগুলোর একটির নাম রায়্যান। এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন’।
সহিহ মুসলিমের সহিহ রেওয়ায়েত দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে, শয়তানদের মধ্যে দুষ্ট যেগুলো আছে, সেগুলোকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়ে থাকে। শয়তান দুই প্রকার। কোরআনে কারিমের শেষ আয়াতটি শেষ আয়াতাটতে বলা হয়েছে, আল্লাহ সুবনাহুতায়ালা শয়তানকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। একটা হচ্ছে জিনদের মধ্য থেকে শয়তান, আরেকটি হচ্ছে মানুষের মধ্য থেকে শয়তান।
জিন শয়তানদেরকে যদিও আটকানো হয়ে থাকে, কিন্তু মানুষ শয়তান থেকে যায়। এই মানুষ শয়তানের যে কাজ রয়েছে, সেই কাজের কারণে মূলত শয়তানি কাজ, খারাপ কাজ কমে না। মানুষ শয়তানকে তো আর শিকলে আবদ্ধ করা যায় না, মানুষের সেই প্রবৃত্তি রয়েই যায়। ফলে মানুষ শয়তান এখানে সবচেয়ে বেশি কাজ করে থাকে। মানুষের মধ্যে যে শয়তানি দিকগুলো আছে, সেগুলোকে আরো উসকে দেয়, সুযোগ করে দেয়।
মানুষ পাপ করে তিন শক্তি দ্বারা তাড়িত হয়। মানুষের নিজের ভেতরের কুপ্রবৃত্তি, তার খাসলত তাকে দিয়ে পাপ করায়। আবার বাইরে থেকে মানুষকে পাপের প্ররোচণা দিয়ে থাকে শয়তান, দুষ্ট প্রকৃতির জিন এবং খারাপ মানুষেরা। রমজানের রাত শুরু হওয়া মাত্রই মহান আল্লাহ শয়তান ও দুষ্ট জিনদের বন্দি করে ফেলছেন। তাই শয়তান ও দুষ্ট জিনরা রমজানে মানুষকে পাপ কাজের কোনো প্ররোচনা দিতে পারছে না বা পারবেও না। পাপের এক তৃতীয়াংশ শক্তি বন্দি থাকার কারণে রমজানে পাপের পরিমাণ অনেক কমে আসে।
মানুষকে দিয়ে পাপ করানোর জন্য উন্মুক্ত থেকে যাচ্ছে তার নিজের কুপ্রবৃত্তি ও বাইরের পাপী মানুষগুলো। এ দু’শক্তি কিন্তু রমজান মাসেও মানুষকে পাপ কাজে প্ররোচিত করে থাকে।
আমরা যদি ভোজনবিলাসী না হয়ে, মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামের প্রকৃত সুন্নত এবং সাহাবিদের রোজা রাখার নুরানি তরিকা অনুসরণ করে ভোজন সংযমী হয়ে সীমিতভাবে সেহরি ও ইফতার করি তাহলে তা আমাদের কৃপ্রবৃত্তিকে দুর্বল করে দেবে এবং সুকুমারবৃত্তিগুলোকে বিকশিত করে দিবে।
রমজান সংযমের মাস, সাধনার মাস, ত্যাগের মাস। কিন্তু আমরা রমজানের মূল বার্তাকে ভুলে গিয়ে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিদের অনুসৃত পথ পরিহার করে সেহরি ও ইফতারে এতটাই ভোজনবিলাসী, খাদ্য ভোগী হয়ে উঠি যা রমজানের সংযম, সাধনা ও ত্যাগের বার্তাকে ভুলিয়ে দেয়। ফলে আমাদের কুপ্রবৃত্তি দুর্বল না হয়ে আরও হিংস্র ও পাশবিক হয়ে উঠে।
কাম, লিপ্সা, রাগ, মোহ আরও বেড়ে যায়। আমাদের সুকুমারবৃত্তিগুলো বিকশিত না হয়ে আরও নিস্তেজ হয়ে যায়। আত্মা বলীয়ান হয়ে পরমাত্মার নিকটবর্তী না পৌঁছে আরও দূরে ছিটকে যায়।
রমজানে রোজা ও কিয়ামুল্লাইল বা তারাবী আদায়কারী কেয়ামতের দিন সিদ্দিক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে। যে ব্যক্তি রমজানের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত, সে চরমভাবে হতভাগ্য। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) এর একটি হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘এই মাস তোমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে, এতে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে সর্বপ্রকার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে’।
যেহেতু রমজান মাসে শয়তান বন্দি থাকছে, ভোজন সীমিত হচ্ছে, তারাবি ও তাহাজ্জুদের কারণে রাত জাগা হচ্ছে স্বভাবতই পাপ হ্রাস পাচ্ছে, সেহেতু রমজানের শুভাগমন উপলক্ষে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যারা ভালো হতে চাও তারা এগিয়ে যাও।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক দল কর্তৃক জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গাজায় গণহত্যা বন্ধে প্রতিবাদ সভা
রাজধানীতে ‘হায় হোসেন’ ধ্বনিতে তাজিয়া মিছিল
দেশে ফিরলেন ৫৬ হাজার ৩৩১ হাজি
পবিত্র হিজরি নববর্ষ আজ
পবিত্র আশুরা ১৭ জুলাই
কাবার চাবি সংরক্ষক শায়েখ সালেহ মারা গেছেন
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ
১৩০ বছর বয়সে হজ, উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন বৃদ্ধা
বাংলাসহ ৫০ ভাষায় অনুবাদ হবে হজের খুতবা
উপহার হিসেবে পাওয়া পশু দিয়ে কোরবানি হবে কী?
৪০জন হাফেজের বিয়ের মাধ্যমে মসজিদ উদ্বোধন
“ওদের বিজ্ঞাপনটা অনেকটা পাগলকে সাঁকো না নাড়ানোর অনুরোধের মতোই হয়েছে”
৭ নামেই কোরবানি কী জায়েজ?
হজে গিয়ে ১৫ বাংলাদেশির মৃত্যু
তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা হজ পালন করবেন যেভাবে
যে ২ ধরনের মানুষকে শরিকে রাখলে কারোই কোরবানি হবে না
৩ লাখ অনুমোদনবিহীন হজযাত্রীকে মক্কা থেকে বের করে দিলো কর্তৃপক্ষ
পশুর মধ্যে যেসব সমস্যা থাকলে কোরবানি হবে না
হজে গিয়ে ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু
কোরবানি না দিয়ে সেই টাকা কি দান করা যাবে?
হজের তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব
অবৈধ পন্থায় টিকিট বিক্রি, ইসলাম সমর্থন করে না
কোরবানিদাতা তার নখ ও চুল কখন কাটবেন?
জগন্নাথদেব এর রথযাত্রায় ইসকনের কর্মসূচি
১১৬ বছর বয়সে মারা গেলেন নড়াইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক খতিব
হজে গিয়ে সর্বমোট ১০জন বাংলাদেশির মৃত্যু
তিনজন শিশু দোলনা থেকে কথা বলেছেন
চোখের আলো ছাড়াই কুরআনের হাফেজ ইমতিয়াজ
সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৫৬ হাজার ৫৫৯ জন হজযাত্রী
ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ২ জন মুসল্লির